স্নেহের নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা, আজ আমরা আলোচনা করবো নবম শ্রেণির ইতিহাস বিষয়ের চতুর্থ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্পর্কে।
১) জার্মানির ঐক্য আন্দোলনে বিসমার্কের অবদান আলোচনা করো।
উত্তর :- ইতালির মতো জার্মানির ঐক্যও সাধিত হয়েছিল সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে একটি রাজবংশের অধীনে। জার্মানির ক্ষেত্রে এই রাজবংশটি ছিল প্রাশিয়ার হোহেনজোলার্ন রাজবংশ। অটোভন বিসমার্ক ছিলেন এই রাজ্যের চ্যান্সেলার বা প্রধানমন্ত্রী। তিনি একজন সুশিক্ষিত, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, বাস্তববাদী, ঘোর রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে বিসমার্ক প্রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হলে জার্মানির ঐক্য আন্দোলনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
কনফেডারেশন অব দ্য রাইন :- ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে জার্মানি পরস্পর বিরোধী ৩০০ টি রাজ্যে বিভক্ত ছিল। নেপোলিয়ন ৩০০ টি রাজ্যকে ৩৯ টি রাজ্যে পরিণত করে কনফেডারেশন অব দ্য রাইন নামে একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠন করেন। কিন্তু নেপোলিয়নের পতনের পর ভিয়েনা ব্যবস্থা অনুসারে জার্মানির ওপর অস্ট্রিয়ার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিসমার্কের উদ্দেশ্য :- বিসমার্কের উদ্দেশ্য ছিল -
অস্ট্রিয়ার কর্তৃত্ব থেকে জার্মানিকে মুক্ত করা এবং প্রাশিয়ার রাজবংশের নেতৃত্বে জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করা।
রক্ত ও লৌহ নীতি :- বিসমার্ক মনে করতেন জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হলে দরকার যুদ্ধ ও কঠোর শৃঙ্খলা। তাই তিনি অল্প সময়ের মধ্যে প্রাশিয়ার সেনাবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি করেন। তাঁর এই নীতি "রক্ত ও লৌহ নীতি" নামে পরিচিত।
রক্ত ও লৌহ নীতির প্রয়োগ :- ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের মাধ্যমে বিসমার্ক জার্মানিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। এগুলি হলো -
ডেনমার্কের যুদ্ধ :- বিসমার্ক অস্ট্রিয়ার সঙ্গে মিলিত হয়ে ১৮৬৪ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। এই যুদ্ধে ডেনমার্ক পরাজিত হলে গ্যাস্টিনের সন্ধি (১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দ) অনুসারে প্রাশিয়া শ্লেজউইগ এবং অস্ট্রিয়া হলস্টিন প্রদেশ লাভ করেন।
অস্ট্রিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ :- ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে স্যাডোয়ার যুদ্ধে অস্ট্রিয়া প্রাশিয়ার কাছে পরাজিত হয়। ফলে প্রাগের সন্ধি (১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দ) অনুসারে রাইন নদীর উত্তরে অবস্থিত অঞ্চল গুলি প্রাশিয়া লাভ করে। এতে রাইন নদীর উত্তর অংশ জার্মানি মুক্ত ও ঐক্যবদ্ধ হয়।
সেডানের যুদ্ধ :- বিসমার্কের সঙ্গে সেডানের যুদ্ধে (১৮৭০ খ্রিঃ) ফ্রান্স তথা সম্রাট তৃতীয় নেপোলিয়ন পরাজিত হয় এবং জার্মানির ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়।
মূল্যায়ন :- এইভাবে, বিসমার্ক তাঁর রক্ত ও লৌহ নীতির মাধ্যমে প্রাশিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ জার্মানি রাষ্ট্র গড়ে তোলেন।
* তোমাদের যদি ইতিহাস বা অন্য কোনো বিষয়ে কোনো প্রশ্নের নোটস বা সাজেশন প্রয়োজন হয়, অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবে। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশে থাকতে Rajesh Sir Tutorial দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন