স্নেহের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা, "Rajesh Sir Tutorial" এ তোমাদের স্বাগত জানাই। আশা করি তোমাদের পড়াশোনা বেশ ভালোই চলছে। আজ এই পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সপ্তম শ্রেণির পরিবেশ ও বিজ্ঞান বিষয়ের পঞ্চম অধ্যায় "মানুষের খাদ্য" অংশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর সম্পর্কে। এই প্রশ্ন - উত্তরগুলি তোমাদের আগামী পরীক্ষায় MCQ, SAQ এবং শূন্যস্থান পূরণ বা সত্য-মিথ্যা নির্ণয়, ২ নম্বরের সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে আসতে পারে। তাই তোমাদের আগামী পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে এই প্রশ্নোত্তর গুলি অতি অবশ্যই করে যেতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলের প্রথম সামেটিভ পরীক্ষায় এই প্রশ্নোত্তরগুলি আসে।
এ বিষয়ে আরেকটি কথা তোমাদের জানিয়ে রাখি, পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের প্রশ্নোত্তর এবং পরীক্ষার আগে সাজেশন তোমরা সার্চ করো Rajesh Sir Tutorial এর Website - www.rajeshsir.in
শ্রেণি :- সপ্তম শ্রেণি
বিষয় :- পরিবেশ ও বিজ্ঞান
অধ্যায় :- পঞ্চম অধ্যায়
অধ্যায়ের নাম :- মানুষের খাদ্য।
পাঠ্য বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর :- ১৩৮ থেকে ১৫৬ পৃষ্ঠা।
১) কোন খাদ্য উপাদানের অভাবে রাতে কম দেখার সমস্যা হয়?
উত্তর :- ভিটামিন A
২) কোন খাদ্য উপাদানের অভাবে চোখের কোণ ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে?
উত্তর :- খনিজ মৌল।
৩) কোন খাদ্য উপাদানের অভাবে ঠোঁটের কোণে ও জিভে ঘা হয়?
উত্তর :- ভিটামিন।
৪) খাদ্য উপাদান গুলি মূলত কয় প্রকার ও কী কী?
উত্তর :- খাদ্য উপাদান গুলি মূলত আট প্রকার। যথা - (i) শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট (ii) প্রোটিন, (iii) লিপিড বা ফ্যাট (iv) ভিটামিন (v) জল (vi) খনিজ মৌল (vii) খাদ্যতন্তু এবং (viii) উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক।
৫) দুটি শর্করা জাতীয় খাদ্যের নাম লেখো।
উত্তর :- ভাত, রুটি, আখ, মধু, পাকা কলা ইত্যাদি।
৬) দেহ গঠনের জন্য ব্যবহৃত শর্করাকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
উত্তর :- দুটি ভাগে ভাগ করা হয়, গ্লুকোজ এবং শ্বেতসার।
৭) গ্লুকোজ কাকে বলে?
উত্তর :- কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার হজম হবার পর যখন সরলতম অণুতে পরিণত হয়, তাই হল গ্লুকোজ।
৮) আমাদের চুল এবং নখে কোন প্রোটিন থাকে?
উত্তর :- কেরাটিন।
৯) আমাদের পেশিতে কোন প্রোটিন থাকে?
উত্তর :- অ্যাকটিন এবং মায়োসিন।
১০) মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় কোন প্রোটিন উপস্থিত?
উত্তর :- হিমোগ্লোবিন।
১১) ফাইব্রিনোজেন প্রোটিন কোথায় পাওয়া যায়?
উত্তর :- রক্তের প্লাজমা।
১২) প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি লেখো।
উত্তর :- শক্তি উৎপন্ন করতে, দেহের বিভিন্ন অংশ বা কলা গঠনে, ক্ষত সারাতে, শ্বাসবায়ু পরিবহনে, পেশির সংকোচনে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১৩) শরীরে প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে কী কী সমস্যার সৃষ্টি হয়?
উত্তর :- অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বাত, কিডনি স্টোন ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
১৪) দুটি উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের উদাহরণ দাও।
উত্তর :- সয়াবিন, গম, মসুর ডাল, ভুট্টা ইত্যাদি।
১৫) প্রোটিনের দুটি প্রাণিজ উৎসের উদাহরণ দাও।
উত্তর :- মাছ, মাংস, ডিম, কাঁকড়া ইত্যাদি।
১৬) আমাদের দেহের কোন কোন অংশে লিপিড সঞ্চিত হয়?
উত্তর :- আমাদের দেহের ঘাড়ে - গলায়, ওপর হাতে, বুকে, পেটে এবং ঊরুতে লিপিড সঞ্চিত হয়।
১৭) লিপিডের দুটি উদ্ভিজ্জ উৎসের উদাহরণ দাও।
উত্তর :- বাদাম, নারকেল, কাঁঠাল, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
১৮) লিপিডে দুটি প্রাণিজ উৎসের উদাহরণ দাও।
উত্তর :- মাছের তেল, দুধ, মাখন, মাংস ইত্যাদি।
১৯) ভিটামিন কে আবিষ্কার করেন?
উত্তর :- বিজ্ঞানী কাসিমির ফাংক ও হপকিন্স।
২০) ভিটামিন কাকে বলে?
উত্তর :- যেসব জৈব দেহ সংরক্ষক পরিপোষক খাদ্যে অতি অল্প পরিমাণে উপস্থিত থেকে দেহের স্বাভাবিক পুষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাকে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ বলে।
২১) ভিটামিন কয় প্রকার ও কি কি?
উত্তর :- ভিটামিন মূলত দুই ধরনের - ১) তেলে বা ফ্যাটে দ্রবনীয় ভিটামিন এবং জলে দ্রবণীয় ভিটামিন।
২২) তেলে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনগুলি?
উত্তর :- ভিটামিন A, D, E ও K
২৩) জলে দ্রবণীয় ভিটামিন কোনগুলি?
উত্তর :- ভিটামিন B কমপ্লেক্স, C
২৪) ভিটামিন A এর উৎস কোনগুলি?
উত্তর :- গাজর ডিম টমেটো পেঁপে দুধ ইত্যাদি।
২৫) ভিটামিন A এর মূল কাজ কী?
উত্তর :- চোখ, চামড়া, হাঁড় আর দাঁত ও খাদ্যনালীর গঠন ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
২৬) ভিটামিন D এর উৎস কোনগুলি?
উত্তর :- বাঁধাকপি, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিম ইত্যাদি।
২৭) ভিটামিন D এর কাজ কী?
উত্তর :- হাড় ও দাঁতের স্বাভাবিক গঠন ঠিক রাখে।
২৮) ভিটামিন E এর উৎস কোনগুলি?
উত্তর :- বাঁধাকপি, কাজুবাদাম, ডিম, ভুট্টা ও লেটুস শাক ইত্যাদি।
২৯) ভিটামিন E এর কাজ কী?
উত্তর :- ত্বক, লোহিত রক্তকণিকা, হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের সক্রিয়তা বজায় রাখে।
৩০) ভিটামিন K এর উৎস কোনগুলি?
উত্তর :- মাখন, দুধ, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি এবং পালং শাক।
৩১) কোন ভিটামিন কেটে যাওয়া জায়গা থেকে রক্ত পড়া বন্ধ করে?
উত্তর :- ভিটামিন K
৩২) চামড়ার নিচে লিপিড স্তরের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তর :- চামড়ার নিচে লিপিড স্তর থাকার ফলে - (i)দেহের ভেতরের অঙ্গসমূহ বাহ্যিক আঘাতের হাত থেকে রক্ষা পায় (ii) দেহে তাপ সংরক্ষিত হয়।
৩৩) কোন ভিটামিনের অভাবে রক্তাল্পতা হয়?
উত্তর :- ভিটামিন B কমপ্লেক্স।
৩৪) স্কার্ভি রোগের কারণ কী?
উত্তর :- ভিটামিন C এর অভাব।
৩৫) মানুষের উচ্চ রক্তচাপের জন্য কোন খনিজ মৌল দায়ী?
উত্তর :- সোডিয়াম।
৩৬) দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে কোন খনিজ মৌল?
উত্তর :- ক্যালসিয়াম।
৩৭) মানুষের শরীরে জলের পরিমাণ কত?
উত্তর :- শতকরা প্রায় ৬৫%
৩৮) কোন কোন খাবার থেকে আমরা তন্তু পাই?
উত্তর :- সজনে ডাঁটা, বাঁধাকপি, আপেল, ওট ইত্যাদি।
৩৯) ফাইটোকেমিক্যালস আছে এমন দুটি খাবারের নাম লেখো।
উত্তর :- বেগুন, টমেটো, কুমড়ো, গাজর, বিট ইত্যাদি।
৪০) দেহের কোন অঙ্গে সব থেকে বেশি জল পাওয়া যায়?
উত্তর :- যকৃতে।
৪১) ভিটামিন A -এর অভাবে কোন রোগ হয়?
উত্তর :- রাতকানা এবং ফ্রিনোডার্মা।
৪২) কোন ভিটামিনের অভাবে শিশুদের রিকেট এবং বয়স্কদের অস্টিওম্যালেশিয়া রোগ হয়?
উত্তর :- ভিটামিন D
৪৩) ভিটামিন K এর অভাবে কী হয়?
উত্তর :- i) ক্ষতস্থানে রক্ত সহজে জমাট বাঁধে না।
ii) রক্তাল্পতা দেখা দেয়।
৪৪) কোন খনিজ মৌলের অভাবে গলগন্ড বা গয়টার হয়?
উত্তর :- আয়োডিন।
৪৫) কোনো শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার খাওয়ার পর সমস্যায় ভোগেন কেন?
উত্তর :- কোনো কোনো শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তি দুধ বা দুগ্ধ জাতীয় খাবার খাওয়ার পর সমস্যায় ভোগেন। তার কারণ - ওই সমস্ত শিশু বা ব্যক্তিরা দুধের ল্যাকটোজকে হজম করতে পারে না। এই সমস্যাকে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বলে।
৪৬) খাদ্যতন্তু কাকে বলে?
উত্তর :- কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্যের যে সমস্ত তন্তুর মতো অংশগুলি উৎসেচকের সাহায্যে পাচিত হয়, অপাচ্য অবস্থায় জলের সঙ্গে নির্গত হয়, তাদের খাদ্যতন্তু বলে। যেমন সেলুলোজ, পেকটিন প্রভৃতি।
৪৭) কোন খনিজ মৌলের অভাবে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগ হয়?
উত্তর :- লৌহ।
৪৮) পেশি সংকোচনে সাহায্যকারী প্রোটিন দুটি কী কী?
উত্তর :- অ্যাকটিন ও মায়োসিন।
৪৯) মধুমেহ বা ডায়াবেটিস কাকে বলে?
উত্তর :- সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহকোষ গ্লুকোজ থেকে শক্তি তৈরি করে। কিন্তু রক্ত থেকে গ্লুকোজ যদি কোশে প্রবেশ করতে না পারে তখন গ্লুকোজ রক্তে জমা হয় এবং রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যায়। গ্লুকোজ তখন রক্তের মাধ্যমে ঘুরতে থাকে এবং তা মূত্রের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলা হয় মধুমেহ বা ডায়াবেটিস। মধুমেহ বা ডায়াবেটিস হলে হৃদপিণ্ড, বৃক্ক, চোখ, পা প্রভৃতি অঙ্গে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়।
৫০) জীবদেহে জলের গুরুত্ব লেখো।
উত্তর :- জীবদেহে জলের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি হল -
উদ্ভিদদেহে :- i) উদ্ভিদের সজীবতা বজায় রাখে।
ii) সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত খাদ্যের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো জল।
iii) বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য জল প্রয়োজন হয়।
iv) উদ্ভিদ বাষ্পমোচন এর মাধ্যমে দেহের অতিরিক্ত জল বাইরে বের করে দিয়ে উদ্ভিদ দেহের উষ্ণতা বজায় রাখে।
প্রাণীদেহে :- i) প্রাণীদেহের সজীবতা বজায় রাখে।
ii) রক্ত লসিকা প্রভৃতি দেহ তরলের মুখ্য উপাদান হলো জল।
iii) প্রাণী দেহ থেকে রেচন ও বর্জ্যপদার্থ অপসারণে জলের প্রয়োজন হয়।
iv) খাদ্য পরিপাক ও শোষণে জলের উপস্থিতি অপরিহার্য।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন